যিলহজ্ব মাসের গুরুত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর করণীয়
আরেকটি বছর শেষ হয়ে আরও একটি বছর শুরু হতে চলেছে। বর্তমানে আমরা হিজরী ১৪৪৫ সনের যিলহজ্ব মাসে আছি এবং শীঘ্রই শুরু হবে হিজরী ১৪৪৬। সময়ের এই পরিবর্তন আমাদের জীবনেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রাত ও দিনের পরিবর্তন তাদের জন্য যারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একজন মুমিনের জন্য সময়ের এই গতিবিধি কখনোই হেলার বিষয় নয় বরং এটা তার আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করে, বিগত দিনের হিসাব মেলায় এবং ভবিষ্যতের জন্য পাথেয় সঞ্চয় করে।
যিলহজ্ব মাসের মহিমা ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ মাসে ইসলামের দুটি প্রধান ইবাদত, হজ্ব এবং কুরবানী, অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এ মাসকে সম্মানিত মাস হিসাবে ঘোষণা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বছরের বার মাসের মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত, এর মধ্যে যিলহজ্ব অন্যতম। যিলহজ্বের প্রথম দশক অত্যন্ত ফজিলতের সময়, যাকে আশারায়ে যিলহজ্ব বলা হয়। এ সময়ের নেক আমল আল্লাহর কাছে খুব প্রিয়।
যিলহজ্ব মাসের নবম দিন ‘ইয়াওমে আরাফা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে হাজীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করে এবং এটি হজের অন্যতম ফরয। আরাফার দিনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এ দিনের রোযা এক বছরের গুনাহ মাফের ফজিলত রাখে। এছাড়াও, এ দিনে করা দুআ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফার দিনের দুআ সর্বোত্তম দুআ।
কুরবানী, যিলহজ্ব মাসের আরেকটি প্রধান ইবাদত, যাকে ইসলামের অন্যতম নিদর্শন হিসাবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, কুরবানীর পশু তোমাদের জন্য কল্যাণের মাধ্যম এবং এটাকে সম্মান করা তোমাদের তাকওয়ার নিদর্শন। যিলহজ্বের দশম দিন ‘ইয়াওমুন নাহর’ কুরবানীর দিন হিসাবে পরিচিত এবং এ দিনটি আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহিমান্বিত দিনগুলোর একটি। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
সর্বশেষ, যিলহজ্ব মাস আমাদের জন্য আত্মমূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। আমরা যেন এই মহিমান্বিত মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে নেক আমল, দুআ, এবং ইবাদতের মাধ্যমে প্রাণবন্ত রাখি। আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত লাভের জন্য আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত এবং বিগত বছরের গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে ইসলামের পথে চলার সংকল্প গ্রহণ করা উচিত।
4o

Leave a Reply