আর কী চাই!
পৃথিবীতে মানুষ যত নিআমত লাভ করে, এর মধ্যে নেককার স্ত্রী অন্যতম প্রধান নিআমত।
স্ত্রী নেককার ও আখলাকওয়ালা হলে পরিবারে জান্নাতী আবেশ বিরাজ করে। অন্যথায় শান্তির পরিবারই হয়ে যায় সাক্ষাৎ জাহান্নাম। তাই তো নেককার স্ত্রীকে হাদীস শরীফে মহা নিআমত ও সৌভাগ্যের বিষয় বলা হয়েছে। আর বদকার স্ত্রীকে দুর্ভাগ্যের বিষয় বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ ثَلاثَةٌ، وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ ثَلاثَةٌ، مِن سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ: الْمَرْأَةُ الصّالِحَةُ، وَالْمَسْكَنُ الصّالِحُ، وَالْمَرْكَبُ الصّالِحُ، وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ: الْمَرْأَةُ السّوءُ، وَالْمَسْكَنُ السّوءُ، وَالْمَرْكَبُ السّوءُ .
আদম সন্তানের সৌভাগ্যের বিষয় তিনটি। তেমনি দুর্ভাগ্যের বিষয়ও তিনটি। প্রথম তিনটি হল, সালিহা (দ্বীনদার-নেককার) স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী। দ্বিতীয় তিনটি হল, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৪
আরেক হাদীসে এসেছে-
مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ، إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ، وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرّتْهُ، وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرّتْهُ، وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ.
আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের পর একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অর্জন একজন সালিহা-দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী; স্বামী কোনো আদেশ করলে তা মানে, তার দিকে তাকালে আনন্দ লাভ হয়, তার বিষয়ে স্বামী কোনো কসম করলে সে তাকে মুক্ত করে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের বিষয়ে ত্রবং স্বামীর সম্পদের বিষয়ে কল্যাণ কামনা করে। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৮৫৭
আরেক হাদীসে এসেছে-
إِنّمَا الدّنْيَا مَتَاعٌ، وَلَيْسَ مِنْ مَتَاعِ الدّنْيَا شَيْءٌ أَفْضَلَ مِنَ الْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ.
দুনিয়া তো (ক্ষণস্থায়ী) প্রয়োজন পূরণের। আর মানুষ দুনিয়াতে যা কিছু দ্বারা কল্যাণ ও উপকার লাভ করে, তার মধ্যে সালিহা-দ্বীনদার-নেককার স্ত্রীর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৮৫৫
আরেক হাদীসে এসেছে-
أَرْبَعٌ مَنْ أُعْطِيَهُنّ أُعْطِيَ خَيْرَ الدّنْيَا وَالْآخِرَةِ: قَلْبًا شَاكِرًا، وَلِسَانًا ذَاكِرًا، وَبَدَنًا عَلَى الْبَلَاءِ صَابِرًا، وَزَوْجَةً لَا تَبْغِيهِ خَوْنًا فِي نَفْسِهَا وَلَا مَالِهِ.
চারটি বস্তু যাকে দান করা হল, তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণ দান করা হল। শোকরকারী অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা, বিপদে ধৈর্যধারণকারী শরীর এবং এমন স্ত্রী, যে নিজের ক্ষেত্রে এবং স্বামীর সম্পদের ক্ষেত্রে কোনো খেয়ানত করে না। -আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ১১২৭৫; আমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৭২১২ মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ৭৪৩৭

Leave a Reply