শোকর কীভাবে আদায় করব?
শোকর আদায় করতে হয় দিলে দিলে, যবানে এবং আমলের মাধ্যমে। এছাড়াও নিআমতের সৎ ব্যবহারের মাধ্যমে শোকর আদায় করতে হয়। নিআমতের গলত ব্যবহার থেকে বিরত থেকে শোকর আদায় করতে হয়। সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর শোকর আদায় করা জরুরি।
যবানের মাধ্যমে শোকর আদায় করার কিছু পদ্ধতি; যেমন, মুখে আলহামদু লিল্লাহ বলা। সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর শোকর আদায় করতে পারি। প্রতি নামাযের পর, প্রতিটি নেক আমলের পর আল্লাহর শোকর আদায় করতে পারি। যখনই আল্লাহর কোনো নিআমতের কথা স্মরণ হবে তখনই বলব- আলহামদু লিল্লাহ।
অন্তরের শোকর হল, অন্তরে একথার বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ আমাকে যত নিআমত দান করেছেন, সব আল্লাহরই মেহেরবানী। আমার কোনো প্রাপ্য ছিল না আল্লাহর কাছে। যা পেয়েছি, সবই প্রাপ্তি।
আমলের শোকর হল, আল্লাহ মেহরবানী করে আমাকে এই নিআমত দান করেছেন, আমি কীভাবে তাঁর নাফরমানী করি! এই অনুভূতি থেকে তাঁর নাফরমানী থেকে বিরত থাকা।
চতুর্থ হল, যে নিআমত আল্লাহ দান করেছেন তার সদ্ব্যবহার। নিআমতের যদি অপব্যবহার হয় তাহলে নাশুকরি হবে। সহীহ ব্যবহার হলে শোকর আদায় হবে। আমি যদি চোখের গোনাহ করি, তবে চোখের নিআমতের নাশুকরি হবে। চিন্তা করুন, যারা চোখে দেখে না, জন্মান্ধ বা আগে ভালো ছিল, এখন কোনো কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তারা কত মুসিবত ও অশান্তিতে আছে!
আল্লাহ তাআলা ধন-দৌলত দান করেছেন, এখন তা গোনাহের কাজে খরচ করব, নাকি জরুরি প্রয়োজনীয় কাজে খরচ করব? আল্লাহর রাস্তায় দান করা যেমন জরুরি কাজ, সংসারে খরচ করাও জরুরি কাজ। কিন্তু গোনাহের কাজে খরচ করলে সেটা হবে জাহান্নামের কাজ। আল্লাহ যাকে যে যোগ্যতা দিয়েছেন, সেটাকে কেবল নেক কাজেই ব্যবহার করতে হবে। দুনিয়ার নেক কাজ হোক বা আখেরাতের।
যাইহোক, আমরা পাঁচভাবে শোকর আদায় করতে পারি :
১. যবানের মাধ্যমে শোকর।
২. দিলের মাধ্যমে শোকর।
৩. আমলের মাধ্যমে শোকর।
৪. নিআমতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শোকর।
৫. নিআমতের অন্যায় ব্যবহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে শোকর।
যদি এভাবে শোকরের যিন্দেগী গড়তে পারি, তবে আমরা সফল।

Leave a Reply