স্ত্রীকে তিন তালাক দেবার পর আবার তাকে বিয়ে করা যায় না কেন?

স্ত্রীকে তিন তালাক দেবার পর আবার তাকে বিয়ে করা যায় না কেন

এক নাম্বার কারণ তো হলো, এটা কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ। আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ।

তাই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেবার পর উক্ত স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করার কোন সুযোগ নেই।

প্রতিটি মুমিন মুসলমান আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদের্শ মানতে বাধ্য।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে,তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। {সূরা বাকারা-২৩০}

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,‎তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। ‎কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}

শরীয়তে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে তালাকের বিধানই রাখা হয়েছে যদি উভয়ের মাঝে সম্পর্ক রাখা সম্ভবপর না হয়, তখন যেন তালাকের মাধ্যমে উভয়ে উভয় থেকে মুক্ত হতে পারে।

তারপরও শরীয়ত তিন তালাক দিতে বলে না। বরং এক তালাক দিতে বলে। যাতে করে পরবর্তীতে ভুল শুধরে গেলে ফিরে আসার সুযোগ থাকে।

আপনি শরীয়তের আইন লঙ্ঘণ করে তিন তালাক দিয়ে আবার শরীয়তের উপরই দোষ চাপাতে পারেন না। শরীয়ততো আপনাকে তিন তালাক দিতে বলেনি। তিন তালাক একসাথে দেয়াকে বিদয়ী তালাক বা নাজায়েজ তালাক বলে অভিহিত করেছে।

আপনি যখন শরীয়তের আইন লঙ্ঘণ করলেন, তখন শাস্তি হিসেবে আইন করা হয়েছে যে, উক্ত স্বামীর কাছে স্ত্রী আর আসতে পারবে না। শাস্তি স্বরূপ তারই স্ত্রী অন্য ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে। তারপর যদি দ্বিতীয় স্বামী মারা যায়, কিংবা কোন কারণে তালাক দেয়, তাহলেই কেবল প্রথম স্বামী আবার বিয়ে করতে পারবে।

এটা শরীয়তের আইন লঙ্ঘণকারী স্বামীর জন্য একটি শাস্তি। তার নিজের স্ত্রী অন্য ব্যক্তির সাথে শারিরীক সম্পর্কে জড়াবে। একজন স্বামীর জন্য এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?

সহজ কথায় শরীয়ত লঙ্ঘণকারী স্বামীর জন্য শাস্তিস্বরূপ এ বিধান রাখা হয়েছে।

والله اعلم بالصواب

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *