‘সালাতুল হাজাত’ নামাজে যে দোয়া পড়বেন
নির্দিষ্ট দোয়া
একটি নির্দিষ্ট দোয়ার কথা হাদিসে এসেছে। একজন অন্ধ ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে উত্তমরূপে ওযু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ার পর এই দোয়াটি পড়তে শিখিয়েছিলেন:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহু ইলাইকা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির রাহমাতি। ইয়া মুহাম্মাদু ইন্নি ক্বাদ তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা রব্বী ফী হা-জাতী হা-যিহী লিতুক্বদা-লী। আল্লাহুম্মা ফাশাফফি’হু ফিইয়্যা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকে মনোনিবেশ করি আপনার নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে, যিনি দয়ার নবী। হে মুহাম্মাদ, আমি আমার এই প্রয়োজনের জন্য আপনার মাধ্যমে আমার রবের দিকে মনোনিবেশ করেছি, যেন তা পূর্ণ হয়। হে আল্লাহ, আমার জন্য তাঁর সুপারিশ কবুল করুন।”
ওই ব্যক্তি ফিরে এসে দেখেন, আল্লাহ তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই হাদিসটি ইমাম তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন এবং ‘সহিহ’ বলেছেন।। উসমান ইবনে হুনাইফ (রা.) এই দোয়াটি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর কাছে প্রয়োজন থাকা এক ব্যক্তিকে শিখিয়েছিলেন এবং সেই ব্যক্তিরও প্রয়োজন পূর্ণ হয়েছিল।
দুই রাকাত নামাজের পর, আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি দরূদ পাঠের পর আরও একটি দোয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়:
উচ্চারণ: লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল হা’লীমুল কারীম। সুবহা’-নাল্লা-হি রব্বিল ‘আ’রশিল ‘আ’যীম। আ’লহা’মদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন। আস্আলুকা মূজিবা-তি রহ’মাতিক, ওয়া ‘আ’যা-ইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গনীমাতা মিন কুল্লি বিররিন, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন। লা- তাদা’ লী যাম্বান ইল্লা- গফারতাহু, ওয়ালা- হাম্মান ইল্লা- ফাররাজতাহু, ওয়ালা- হা-জাতান হিয়া লাকা রিদ্বা-ন ইল্লা- ক্বদ্বাইতাহা- ইয়া আরহা’মার র-হি’মীন।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সহনশীল ও মহান। পবিত্র আল্লাহ, যিনি মহান আরশের রব। সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার রহমতের কারণগুলো, আপনার ক্ষমার দৃঢ় সংকল্পগুলো, সকল প্রকার নেক আমলের লাভ এবং সকল পাপ থেকে মুক্তি। আপনি আমার কোনো পাপ ক্ষমা না করে ছেড়ে দেবেন না, কোনো দুশ্চিন্তা দূর না করে ছেড়ে দেবেন না, এবং আপনার সন্তুষ্টি হয় এমন কোনো প্রয়োজন পূরণ না করে ছেড়ে দেবেন না, হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান।
যদিও এই দোয়াটি উত্তম, তবে এটিকে নবী (সা.)-এর সাথে নির্দিষ্টভাবে সম্পর্কিত করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অন্যান্য বিশুদ্ধ দোয়া হাদীসের কিতাবে পাওয়া যেতে পারে।
দোয়া কখন করবেন
দোয়া সসিজদায় উত্তম। হাদিসে বর্ণিত আছে, “বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সসিজদায় থাকে। অতএব তোমরা সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)
আরেকটি হাদিসে আছে, “রুকুতে তোমরা রবের মহিমা বর্ণনা করো এবং সিজদায় খুব দোয়া করো, তাহলে তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত হবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৭৯)
একজন মুসলিমকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে, সে তার রবের ইবাদত ও তাঁর কাছে চাওয়া-পাওয়ার কাজগুলো শরীয়তের অনুমোদিত পথেই করছে। আল্লাহকে কেবলমাত্র সেইভাবেই ডাকা উচিত, যা কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আর এই প্রমাণিত পথেই অসংখ্য বরকত নিহিত আছে।

Leave a Reply