রাষ্ট্রীয় সংকটকালে প্রতিবেশির পাশে থাকা ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

সমাজবদ্ধ পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনায় এ প্রতিবেশীই মানুষের নিত্যসঙ্গী। গ্রামীণ জীবনে প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা সহমর্মিতা তুলনামূলক বজায় থাকলেও ইট-পাথরের শহরে তা অনেকটাই হতাশাজনক।

পিতামাতা ও আত্মীয়ের অধিকারের পাশেই প্রতিবেশী

ইসলাম প্রতিবেশীর হক ও অধিকারকে পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকারের পাশেই স্থান দিয়েছে। নির্দেশ দিয়েছে তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। কোনো কিছুকে তার সঙ্গে শরিক কোরো না এবং পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের দাস-দাসীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)

প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ ঈমানের অনুষঙ্গ

হাদিসে প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান ও সদাচরণকে ঈমানের অনুষঙ্গ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আবু শুরাইহ (রা.) বলেন, ‘আমার দুই কান শ্রবণ করেছে, আমার দুই চক্ষু প্রত্যক্ষ করেছে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং আখেরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে সম্মান করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

অন্যত্র বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৫)

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৩)

অভাব-অনটনে পাশে থাকা

ইসলাম প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচার ও সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের অভাব-অনটনে পাশে থাকার প্রতিও উদ্বুদ্ধ করেছে। ক্ষুধার্ত প্রতিবেশী রেখে যে মুমিন উদরপূর্তি করবে ইসলাম তাকে পূর্ণাঙ্গ মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্র লুট তারাজ ও ডাকাতি বেড়ে গিয়েছে। এই সংকটকালে প্রতিবেশীর পাশে থাকা ও খোজ খবর নেয়া আমাদের সকলের কর্তব্য। আমরা যদি অন্যের বিপদে এগিয়ে যাই, আমাদের বিপদেও মানুষ আসবে। এটা সকলের অধিকার। যেহেতু দেশে সবধরণের সংকট চলছে,  যারা দৈনিক মজুরির উপর নির্ভরশীল, তারা এই দুরাবস্থায় অনেকেই না খেয়ে আছে। সুতরাং তাদের খোজ নেয়া ও সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *