শয়তানের ফাঁদ
শয়তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল, সে সবসময়ই হারাম জিনিসকেই হালাল হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করে।
যেমন- হারাম কোন জিনিসের সুন্দর নাম দেয়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় হালাল সিনেমা, হালাল গান, হালাল পানীয় ইত্যাদি। আবার সে সত্যকেও মিথ্যা হিসেবে দেখাতে চায়।
সে আমাদের সামনে হারাম জিনিসটিকেই অত্যন্ত সুন্দর করে উপস্থাপন করে আর এর মাধ্যমে সে নফসকে প্ররোচনা যুগিয়ে আমাদের দিয়ে ওই হারাম কাজটি করিয়ে ফেলে।
ইবলিস বলে,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ
الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে ভ্রান্তপথে ঠেলে দিলেন, কাজেই আমিও পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকাজকে অবশ্য অবশ্যই সুশোভিত করে দেখাব আর তাদের সবাইকে অবশ্য অবশ্যই বিভ্রান্ত করব।
এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ. লিখেছেন,
তার কৌশলগুলোর একটি হলো মানুষ বিভ্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার অন্তরকে মোহগ্রস্ত করে রাখা। আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, সে ছাড়া আর কেউই তার মোহ থেকে নিরাপদ নয়। ক্ষতিকর জিনিসকে সে শোভনীয় করে দেখায়।
এক পর্যায়ে মানুষ সেটাকেই নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করতে শুরু করে। আর সে উপকারী জিনিস থেকে মানুষকে এমনভাবে পালাতে বাধ্য করে, যেন সেটাই সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস। নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই! কত মানুষ যে এই মোহের ফিতনায় পড়েছে! কত অন্তর যে এভাবে ইসলাম, ঈমান ও কল্যাণ থেকে দূরে সরে রয়েছে।
আর কত বাতিলকে যে অন্তরের কাছে লোভনীয় ও চাকচিক্যময় করে দেখানো হয়! এমনকি জ্ঞানীদের মাঝেও যে কত মিথ্যে এভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সে মানুষের অন্তরকে মোহগ্রস্ত করে রাখে, যতক্ষণ না তারা কামনা- বাসনা ও মন্দ মতাদর্শের অনুসরণ করতে শুরু করে।
মূর্তিপূজা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করা, সন্তান হত্যা, অজাচার-অনাচার ইত্যাদিকে সে মোহনীয় করে দেখায়। কুফর, পাপাচার ও নাফরমানিমূলক কাজকর্মের বিনিময়ে সে জান্নাতি সাফল্যের ওয়াদা করে। সে শিরককে বানিয়ে ছাড়ে সবচেয়ে সম্মানিত জিনিস।
আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি ও কালাম অস্বীকার করাকে সে তুলে ধরে বিশুদ্ধ আকিদা হিসেবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াকে সে তুলে ধরে ইমামদের ও জ্ঞানবানদের অনুসরণ হিসেবে। মুনাফিকি করা ও আল্লাহর দীনকে কাটছাঁট করে তুলে ধরাকে সে তুলে ধরে মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়ার প্রশংসনীয় আচরণ হিসেবে।

Leave a Reply